নেপালের বিপক্ষে ফাইনালে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার পণ দুই ‘চ্যাম্পিয়ন’ মনিকা চাকমা ও মারিয়া মান্দার
ক্রীড়া প্রতিবেদক
পিটার জেমস বাটলার সবসময় রহস্য রাখতে পছন্দ করেন সেরা একাদশ নিয়ে। যদিও টিম সুত্রের খবর উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গত আসরে মাঝমাঠে আক্রমণের সুর বেঁধে দেওয়া মারিয়া মান্দা ও মনিকা চাকমার কাঁধেই উঠবে গুরুভার, তবে সবকিছুর জন্যই নিজেদের তৈরি রাখছেন মিডফিল্ডাররা।
কাঠমাণ্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে আজ বুধবার শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক নেপাল ও বাংলাদেশ। দুই বছর আগে, এই ভেন্যুতে নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ এশিয়ার মেয়েদের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ।
গত আসরে বাংলাদেশের মাঝমাঠের ‘নিউক্লিয়াস’ ছিলেন মারিয়া ও মনিকা জুটি। এবারের আসর শুরুর আগে কিছুদিন মারিয়া ছিলেন না সেরা ছন্দে। বাংলাদেশ জাতীয় নারী দলের কোচ বাটলার তাই পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে পরখ করেছিলেন মনিকা-স্বপ্না রানী জুটি। বিতর্কের শুরু সেই থেকে!
পাকিস্তানের বিপক্ষে ১-১ ড্রয়ের পর মনিকা গণমাধ্যমকে বলে বসেন, মাঝমাঠে তিনি পাশে চান মারিয়াকে। স্বপ্নার সাথে তার ‘জমছে’ না। বিতর্ক ও সমালোচনার নানা বাক-বদলের পর মনিকা-মারিয়া জুটি দেখা মেলে। দুজনে আলোও ছড়ান বরাবরের মতো।
গত আসরে আর সব ম্যাচের মতো নেপালের বিপক্ষে ফাইনালেও মধ্যমণি ছিলেন তারা দুজন। অধিনায়ক সাবিনা খাতুনও মাঝমাঠে এ দুজনকে চাওয়ার কথা ঘুরেফিরে বলেছেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সাথে আলাপচারিতায় মনিকা, মারিয়াও মেলে ধরলেন তাদের মধ্যে বোঝাপড়ার পুরানো অতীত।
এবারের আসরে মাঝমাঠে নিয়মিত খেলে, একের পর এক আক্রমণের সুর বেঁধে দেওয়া মনিকা বললেন, নেপালের বিপক্ষে তিনি খেলতে চান সহজাত ফুটবল। মাঠের বাইরের কোনো কারণে হারাতে চান না মনোযোগ।
আমাদের লক্ষ্য শেষটা ভালো করা। সে লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামব। পাকিস্তানের বিপক্ষে ড্রয়ের পর আমরা মাঝমাঠে উন্নতি করেছি, ভারতকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। ভুটানকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছি। আমার মনে হয়, ফাইনালেও কোচের নির্দেশনা অনুযায়ী মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারব আমরা, আমাদের মনোযোগ হারালে চলবে না।
চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের একাদশে ছিলেন না মারিয়া। সাফ জয়ী এই মিডফিল্ডারের পারফরম্যান্স সেই থেকে নেমে যায় পড়তির দিকে। নেপালের বিপক্ষে মহারণে মনিকা-মারিয়া জুটিকে পাশে চাওয়ার কথা বলেছেন অধিনায়ক সাবিনা খাতুন, মারিয়াকে নিয়ে যদিও অতটা আশাবাদী নন কোচ বাটলার।
ফাইনালের ছক নিয়ে মুখে ছিপি বাংলাদেশ কোচের। আর্মি হেডকোয়ার্টার্স গ্রাউন্ডে মঙ্গলবারের প্রস্তুতি মাঝমাঠের ছক পুরোপুরি খোলাসা করেননি কোচ। তবে মারিয়া জানালেন, আস্থার প্রতিদান দিতে প্রস্তুত তিনি।
মাঝমাঠে মনিকার সাথে আমার বোঝাপড়া অনেক দিনের। কেননা, দীর্ঘদিন ধরে আমরা একসাথে খেলছি। গত সাফেও আমরা দুজনে মিলে মিডফিল্ড সামলেছি। জানি না, কোচ আমাকে শুরু থেকে খেলাবেন কিনা, কিন্তু যখনই সুযোগ পাবো, সেরাটাই দিব, যাতে আবারও চ্যাম্পিয়ন হতে পারি আমরা।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
